Uncategorized

সালাম Vs. হাই, হ্যালো।

নতুন প্রজন্মের অভিবাদনে যোগ হয়েছে – হাই, হ্যালো, হোয়াটস আপ, ইত্যাদি। এদের মতে যারা আগের ধারায় “আসসালামু আলাইকুম” বলেন তারা অনেকটা সেকেলে। আবার নতুনরা সালাম দিতে লজ্জাও বোধ করেন। এ যেনো পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুসরণে আধুনিক তকমা লাগানোর একটা প্রচেস্টা। এই আধুনিক শব্দগুলো কি আদৌ কোন অর্থ বহন করে?

ইসলামি শিষ্টাচারের মধ্যে সালাম হল অভিবাদনের উত্তম মাধ্যম। সালাম আরবি শব্দ। এর অর্থ-শান্তি, প্রশান্তি, কল্যাণ, ইত্যাদি। সালাম হচ্ছে একে অপরের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা কামনায় আল্লাহ তা’আলার নিকট বিশেষ দু’আ বা আবেদন। অর্থাৎ, সালাম দিচ্ছেন মানে আপনি তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন।

এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইসলামের কোন কাজ সর্বোত্তম? উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‘ক্ষুধার্তকে খাবার দেয়া এবং চেনা-অচেনা সবাইকে সালাম করা।’

রাসুলে কারীম (সা.) ছোট-বড়, ধনী-গরীব সবাইকে সর্বাগ্রে সালাম দিতেন। এমনকি নিজের কন্যা হযরত ফাতেমা (রাঃ) কেও তিনি আগে সালাম দিতেন। এছাড়াও বলতেন, “যখন তুমি তোমার ঘরে পরিবার-পরিজনের নিকট প্রবেশ করবে, তখন তুমি সালাম করবে। এতে তোমার ও তোমার পরিবারের সকলের জন্য বরকত নিহিত রয়েছে”। এছাড়া সালামের দ্বারা পরস্পরের হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়। অহঙ্কার থেকেও বেঁচে থাকা যায়। সর্বত্র সালামের মাধ্যমে সৃষ্টি হবে একে অপরের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য । রাসুল (সাঃ) বলতেন, ‘সালাম শুধু জীবিত লোকদের নয় বরং তোমরা মৃত ব্যক্তিদেরও সালাম দেবে।’ অর্থাৎ যখন কোনো মুসলমানের কবরের পাশ দিয়ে যাবে তখন তাকে সালাম করবে (আস্সালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর বলে) তার জন্য মাগফিরাত কামনা করবে।’ ইসলাম ধর্মে সালামের প্রসার ঘটাতে বলা হয়েছে। এতে রয়েছে ইহকালিন ও পরকালিন অনেক ফজিলত।

অর্থহীন বর্তমান ব্যবহৃত হাই, হ্যালো, হোয়াটস আপ – শব্দগুলো পরিহার করে আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলকেই বেশি বেশি সালাম দেয়ার ও কথাগুলো বুঝার তাওফিক দান করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *